পোস্টগুলি

কবি মাহমুদুল হাসান জয়

ছবি
কবি মাহমুদুল হাসান জয় ৭ই নভেম্বর ২০০১ সালে বগুড়া জেলার মাঝিরা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জিন্নুর রহমান পেশায় একজন অবসর সেনাবাহিনী এবং মাতা সুফিয়া বেগম।তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর গ্রামে। যেটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানেই তার বেড়ে ওঠা। ২০১৩ সালে কয়লার দিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু হয়। এখন তিনি এই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। যখন তিনি অষ্টম শ্রেনীতে পড়েন একদিন জানালার ধারে বসে ভাবছিলেন আর কিছু লিখার চেষ্টা করছিলেন। তিনি প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করে কবিতার মতো কিছু বানালেন। এটিই তার প্রথম কবিতা । তারপর একের পর এক কবিতা লিখতে থাকেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম পাঁচমিশালি। এই প্রতিভাবান কবির বিজ্ঞানের প্রতি টান সেই ছোটবেলা থেকেই ছিলো। তার কাল্পনিক বিজ্ঞানের এক রহস্যঘন উপন্যাসের নাম Safe our man's life. এই উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষের DNA এর পরিবর্তন ঘটিয়ে আয়ু বৃদ্ধি করা যায়। তার আরেকটি বিজ্ঞান বিষয়ক উপন্যাসের নাম অমানব। এটিতে তিনি ভবিষ্যৎ যন্ত্র দিয়ে এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগ তৈরি নিয়ে লিখেছেন।

সমাজ ব্যবস্থা

সমাজ ব্যবস্থা
-----মাহমুদুল হাসান জয়
আজ অন্তরের সফলতাকে খুঁজতে গিয়ে পরাজিত
হয়েছি হারের কাছে। বইয়ে পড়লাম আমাদের
সমাজ ব্যবস্থা, নৈতিকতা আরও কত কি! যে ন্যায়
প্রতিষ্ঠা করতে আইনীয়ভাবে এবং শিক্ষিত
বর্গসমাজ প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বইয়ের ভাষায় যদি বলি আমাদের দেশে কুসংস্কার
প্রায়ই উঠেই এসেছে। কিন্তু বাস্তবে তা
মিলাতে গিয়ে তার উল্টো চিত্রই আমার হৃদয়কে
আঘাত দিল। আজকের এইদিন তথা আধুনিক,বিজ্ঞান
সম্মিলিত,কুসংস্কার মুক্ত আর ধর্মনিরপেক্ষও
বটে। তবে কেন আজও সমাজ ব্যবস্থা বারবনিতার
চাদরে মুড়ানো? ধরুন, যে বাহিনীর প্রধান
উদ্দেশ্য কি না অন্যায় দমন করা। কিন্তু তাঁরাই
পরস্পরের মধ্যে বহুলমাত্রায় ঘুষ আদান প্রদান
করেন। কেন ঘুষ কি অন্যায় নয়? সমাজের
কোনো এক ব্যাক্তিকে বলা হলো [ ঘুষ কিংবা
যৌতুক প্রথা অবশ্যই যুক্তি সম্মত নয়] তাঁর থেকে
উত্তর পেলাম সর্বক্ষেত্রে এটি কার্যকারী
নয়। কারন, বাড়িতে কোনো মেয়েকে
বসিয়ে রাখা অনেক বাবার চিন্তার কারন ও হতে
পারে।
এই যুক্তি শোনার পরে আমার অন্তরে এক বিকট
আওয়াজ হলো। চোখে পানি গড়াতে লাগলো।
আমরা শিক্ষিত, জ্ঞানী, কুপ্রথা বিরোধী বই
পড়ে অসীম জ্ঞানে লিপ…

শত ব্যাঙ্গ

ছবি
শত ব্যাঙ্গ
-------মাহমুদুল হাসান জয়
উন্মাদের অভিনয়ে জয়ী,
পাত্রের তামাশায় আমি ক্ষয়ী!
মোর ইচ্ছেরা উদ্দীপিত,
কিন্তু পিছু ছাড়েনা ব্যাঙ্গ শত।
মনের দুয়ারে এসে বিঁধে,
পীড়ার আগুন লাগে কাঁধে।
হাইরে মনুষ্যের ভুল ধারনা,
মোর আত্মাকে দিল যন্ত্রনা।
সরল যাপনে জীবন,
এটাই কি পাগলের কারন!
বাজে টিপ্পনিতে হইনি অভিমানী,
কারন আমি ন্যায় সেটা জানি।
জ্ঞানীর মুখোসধারী,
অন্তরে মূর্খতা সৃষ্টিকারী,
এরাই সমাজের ধ্বংশকারী।
বেঁচে থাকতে হবে ঐসব কুদের থেকে,
নইলে সবার প্রতিভা যাবে বেঁকে।

শীতের রাত

ছবি
শীতের রাত
------মাহমুদুল হাসান জয়
সহসা মাঝ রাতে শুনলাম এক ডাক,
ভয়ে হাজারো ভাবনা মনে করলো
ঘুরপাক।
ঘুম ভেঙে জেগে উঠি,
শীতের তীব্র ঠান্ডায় লেপ দিয়ে
গুটিসুটি।
দরজা বন্ধ জানালা বন্ধ দু লেপের
প্রাবরণ,
তবুও যেন ঠান্ডা মিটলো না গায়ে
ধরলো কাঁপন।
ডাকের পর ডাক ছুটলো মনে ধরলো ভীতি,
ঘুম ভেঙে রাগ ধরলো লাগলো না কোনো
প্রীতি।
স্বীয় সান্ত্বনায় করলাম ফের শয়ন,
অজান্তেই বন্ধ হলো মোর দু নয়ন।
পরদিন সকালে বাহির হয়ে দেখলাম,
এ যে কুকুর তিনখানা বাচ্চা তার দেহে
লাগাম।
তীব্র ঠান্ডায় আর্তনাদ করেছে সারা
রাত,
তিন শাবক ছানা এক সাথ।
প্রকৃতির লেপে মুন্ডিত রয়েছে গাত্র,
হৃদয়স্পর্ষী শাবকদের চোখ ফুটলো মাত্র।
মা কুকুর পক্ষীণি ধরবে এই ভেবে সবাই
সন্ধিহান,
চিন্তাধীন সবাই নিতে চাইলো তাদের
জান।
অদৃষ্ট মিনতিতে বিরত থাকলো সবাই,
কিন্তু শাবক ছানাদের ফেলে দিল এক
গুহায়।
জানি না শাবক মা আদৌ কি ফিরে
পাবে তাদের?
মায়ের স্নেহভরা বুকে লুকাতে পারবে
ফের!
ーー

জীবনের শেষ পাতা

জীবনের শেষ পাতা
---মাহমুদুল হাসান জয়

জীবনের খেলার ছলে,
হারিয়েছি মোর রোষের তলে।
বই হারা জ্ঞানী,
 ফেলেছি চোখের পানি।
অতকির্তে পথ চলার শেষে,
মোর কষ্টের শুলানি উঠেছে ভেসে।
যুগের তারণায় তাল মিলানো,
বাধ্যতায় হ্যা মুখে ফলান
সবই করেছি তা হেসে।
হৃদয় ছাড়া ভালবেসে।
মনুষ্যের স্পৃহা মেটাতে,
ভুবনের দ্বারা অসৎ  ঘটাতে,
বাধেনা কক্ষনো স্বীয় বিবেকে।
স্বার্থহীনতায় চলেছে কবে কে?
 মানুষের জন্যই কেবল মানুষ,
ভয়ের জন্য রয়েছে সাহস।
আর মানুষের ভয়েই ভীতু মোরা,
মনুষ্যের বিবেক কতই বেঁহুশ।
ক্ষমতার অপকর্মের নিষ্ফলতা,
নিরীহদের ত্রস্তটাই শেষপাতা।

প্রথম প্রভাত

প্রথম প্রভাত
মাহমুদুল হাসান জয়


মধুমাখা সকালবেলা,
তার রূপের কথা,
যাই না কো সেটা বলা।
ঠান্ডা শীতল হাওয়া,
মন দোলানো প্রকৃতি,
সবই যেন আনন্দের চিঠি।
হঠাৎই বৃষ্টি নামে,
শীতল কুসুমের হীম জমে।
রজনীগন্ধার মন ছোঁয়া সুবাসে,
দেহ মনে প্রশান্তি বয়ে আসে।
তারাময় আকাশ নিভাই,
সূর্যের নয়া আলোর আভায়।
পাখির গানে গতনিদ্র,
মানব চিত্ত থাকে আদ্র।
গাঁয়রই এসব চিত্র,
তথা গাঁয়ই মোদের মিত্র।
আরজ করি এতৎই যেন রয়,
বাংলার পথে, মাঠে,
সারাক্ষণ আনন্দের হাওয়াই যেন বয়।

বিমুখী

বিমুখী
মাহমুদুল হাসান জয়

ভয়ের হুঙ্কার বাজে,
হুঙ্কারি কঠোর রাগে সাজে।
রাগের আগুনে নিভাই হাসি!
ভয়ে ভীতুরা নিজে দেয় ফাঁসি।
হুঙ্কারির রাগী লাল চোখ,
মায়াহীন খুনের ভোখ!
লোভ- লালসায় আচ্ছন্ন রাগী,
তার কটুকাব্যতায় সবাই মোরা জাগি।
পাছে বলি প্রতিবাদী হবই!
কিন্তু  পুরতে মোরা সবাই ভাগি।

উষ্ণতার বদ্ধমূল স্বভাব,
সমুচিত জ্ঞানের রয়েছে অভাব।
কত্তয়ায় বারবনিতা আরত্ত,
অন্যের গিবতে সে মত্ত।
প্রভুর প্রতি অনাস্থায়ী,
বুঝে না সে জীবন ক্ষনস্থায়ী।
ভোগ-বিলাসীতায় বিমুগ্ধকারী,
স্বীয় পছন্দ পরের ওপর করে জারি।